এই লেখাটা কিছুদিন আগে লেখা, তবে এখনো প্রাসঙ্গিক। এর একটি ‘পরিশোধিত’ সংস্করণ প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় সংকট খাদ্যদ্রব্যের বেপরোয়া মূল্যবৃদ্ধি। গত এক বছরে এই মূল্যস্ফীতি প্রকট আকার ধারণ করেছে, এবং দেশে দেশে তা সামাজিক স্থিতিশীলতাকে নাড়িয়ে দিচ্ছে। অপর যে সংকট - জ্বালানী তেলের মূল্যবৃদ্ধি – তা গত তিন-চার বছর ধরেই পরিলক্ষিত হচ্ছিল। কিন্তু নানান কারনে সেটা ২০০৮ সালের মধ্যবর্তী সময়ে এসে ক্রাইসিসে পরিণত হয়েছে।
গত শুক্রবার এক ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ১২৯ ডলার থেকে ১৩৯ ডলারে উঠে যায়। এই হঠাৎ অবনতি বিশেষজ্ঞদের একেবারে কাঁপিয়ে দিয়েছে। কিছুদিন আগে পর্যন্ত তেলের বাজারে নিয়ম ছিল ছোট মাপের ওঠা-নামা – দৈনিক কয়েক সেন্ট করে দাম বাড়তো অথবা কমতো। সেই বাজারে একদিনে ১০ ডলারের মূল্যবৃদ্ধি একটা বিশাল ধাক্কা বৈকি।
কিছুটা পেছনে ফিরে তাকাই। নীচের তালিকা থেকে তেলের দামের ক্রমশ বৃদ্ধি সম্পর্কে আন্দাজ পাবেন -
(সারণী)
এক ব্যারেল ক্রুড অয়েলের বছর-শেষ দাম -
২০০৩ – ৩০ ডলার
২০০৪ – ৪০ ডলার (পুরো বছরে ১০ ডলারের বৃদ্ধি)
২০০৫ - ৫৬ ডলার (১৬ ডলার বৃদ্ধি)
২০০৬ – ৫৯ ডলার (৩ ডলার বৃদ্ধি)
২০০৭ – ৯৪ ডলার (৩৫ ডলার বৃদ্ধি)
২০০৮ জুন – ১৩৯ ডলার (৬ মাসে ৪৫ ডলার বৃদ্ধি)
বাজার যে ভেঙ্গে পড়ছে, সেটা বোঝানোর জন্যে এই সারণীটুকুই যথেষ্ঠ। পুরো বছরে যেখানে তেলের দাম ১০ ডলার উঠতো, সেখানে একদিন-একরাতের মধ্যে দাম একই পরিমান উঠে যাচ্ছে। এটা কিভাবে সম্ভব? এটা কি স্বাভাবিক বা স্বতস্ফূর্ত? নাকি এখানে অন্য কিছু কাজ করছে? এর উত্তর খোঁজার আগে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের চাহিদা যোগান নিয়ে একটু আলাপ করা যাক।
উন্নয়নশীল বিশ্বে ক্রমবর্ধমান চাহিদা
শুরুতেই বলে রাখা ভালো যে তেলের দাম বাড়ার পেছনে কিছু ন্যায্য কারণ আছে। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ দুটি দেশ চীন ও ভারত। পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশই হয় ভারত নয় চীনের নাগরিক। সাম্প্রতিককালে এই দুটো দেশেই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ভীষণভাবে বেড়েছে – গড়পরতা ৯-১১%। ইউরোপের সাথে তুলনায় এই প্রবৃদ্ধির হার পাঁচগুণ বেশি, আর আমেরিকার অর্থনীতির তুলনায় প্রায় তিনগুণ।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি অন্যতম প্রধাণ চালিকাশক্তি হলো জ্বালানী অথবা তেল। শিল্প কারখানা থেকে শুরু করে বাস-ট্রাক-গাড়ি চালাতে প্রয়োজন হয় জ্বালানীর। পৃথিবীর বৃহত্তম দুটো দেশ যদি তড়িৎ গতিতে প্রবৃদ্ধি লাভ করে, তাহলে তাদের জ্বালানীর চাহিদাও বাড়তে বাধ্য। উদাহরণ দেই – চীনা সরকারের হিসাব মতে ২০০৬ সালে চীনের অভ্যন্তরীণ তেলের চাহিদা ছিল ৩৫ কোটি টন। ২০১০ সালে তা গিয়ে দাঁড়াবে ৪০ কোটি টনে, আর ২০২০ সালে ৫৬ কোটি টনে।
চীন ও ভারত ছাড়াও এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশগুলো গত ৫ বছরে ভালো প্রবৃদ্ধির হার অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন – এগুলো হলো কর্মসংস্থানের উৎস, মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের একটি চাবিকাঠি। কিন্তু দ্রুত প্রবৃদ্ধির অপর পিঠ হচ্ছে তেল এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের ভান্ডারের উপর চাপ সৃষ্টি।
তেলের ভান্ডার কি নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে?
এই প্রাকৃতিক সম্পদের ভান্ডারের দিকে একটু নজর ফেরাই। জ্বালানী বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা বিশ্বাস করেন পৃথিবীর তেলের ভান্ডার ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়ে আসছে। এই তত্ত্বের নাম দেয়া হয়েছে পীক অয়েল থিওরি (peak oil theory)। প্রমাণ হিসাবে এই বিশেষজ্ঞরা আমাদের নজর আকর্ষণ করেন বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেলের খনিগুলোর দিকে। কি হচ্ছে সেগুলোর ভেতরে?
আয়তনের দিক থেকে পৃথিবীর টপ ফাইভ তেলখনির মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের গাওয়ার খনি, কুয়েতের বুর্গান খনি, এবং মেক্সিকোর ক্যান্টারেল খনি। আশংকার বিষয় হচ্ছে যে তিনটি খনিরই দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে আসছে। ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি যেই তেল ছিল, তা উত্তোলন করা প্রায় শেষ। এই খনিগুলোর ভেতরে এখনো কোটি কোটি ব্যারেল তেল রয়ে গেছে। কিন্তু সেই তেল হলো ভূগর্ভের আরো অভ্যন্তরে, প্রতি বছরই তা গভীর থেকে আরো গভীরে চলে যাচ্ছে। উত্তোলন করা আরো কষ্টসাপেক্ষ হয়ে পড়ছে, তেল উত্তোলনের খরচও ক্রমশ বাড়ছে।
আরো কাহিনী আছে। কথা উঠেছে যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বিশ্ববাজারকে আশ্বস্ত করতে গিয়ে উদ্দেশ্যমূলক ভাবে তাদের তেলের খনির ধারণক্ষমতা বাড়িয়ে বাড়িয়ে বলছে। যত না তেল আছে, তার থেকে বেশী দাবী করছে তারা। অপরদিকে আশার কথা হলো যে ২০০৭ সালে ব্রাজিলের উপকূলে আবিষ্কার হয়েছে বেশ কিছু বড় বড় তেলের খনি। কিন্তু সেগুলো থেকে বাণিজ্যিকভাবে তেল উত্তোলন করা এখনো শুরু হয়নি। এবং শুরু হতেও বেশ কয়েক বছর লাগবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
তেলের বড় উৎপাদক দেশ নাইজেরিয়া ও ভেনেজুয়েলা সম্পর্কেও কিছু বলা যায়। অঢেল তেল-সম্পদ থাকা সত্ত্বেও নাইজেরিয়ার সাধারণ জনগণ গত ৩০-৪০ বছরে এর কোন সুফল দেখেনি। বরং দেশটি দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর হয়েছে, নাইজেরীয়দের জীবনযাত্রার মান ক্রমশ সংকুচিত হয়েছে। এর প্রতিবাদে সে দেশে কয়েক বছর ধরেই তেল উত্তোলনকারী বিদেশী কম্পানীগুলোর বিরুদ্ধে চাপা অসন্তোষ ঘণীভূত হচ্ছে। সেই অসন্তোষ মাঝে মাঝে প্রকাশ পায় - তেলের পাইপের উপর হামলা হয়, তেল কম্পানীর কর্মীরাও কখনো কখনো কিডন্যাপ হন। আর দুনিয়ার অপর কোনায় রয়েছে আরেক তেল-সমৃদ্ধ দেশ ভেনেজুয়েলা। তার নেতা হুগো চাভেজ-এর সাথে পশ্চিমা বিশ্বের তেমন কোন সুসম্পর্ক নেই। এইসব কারনেও তেলের দাম কিছুটা ওঠা-নামা করতে পারে।
পশ্চিমা বিশ্বের যথেচ্ছ জ্বালানী ব্যবহার
এর পরে দেখা যাক উন্নত বিশ্বের কান্ড। পশ্চিমা বিশ্বে উৎপাদন থেকে শুরু করে সাধারণ জীবনযাত্রার বিন্যাস, সব কিছুই অত্যন্ত ব্যয়বহুল, জ্বালানী শক্তি খরচের দিক থেকে চিন্তা করলে। মাথাপিছু হিসাব কষে বিষয়টি আরো পরিষ্কার করা যায়। দেখা গেছে যে গড়ে উন্নত বিশ্বের প্রতিটি নাগরিক যতখানি জ্বালানী শক্তি খরচ করেন এক বছরে, সেটা অনুন্নত বিশ্বের মাথাপিছু জ্বালানী ব্যবহারের প্রায় পাঁচগুণ। (ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইন্সটিটিউটের ২০০৩ সালের হিসাব অনুযায়ী)।
এটা তো গড় হিসাব। দুটো দেশকে বেছে নিয়ে মাথাপিছু তুলনা করলে হিসাব আরো চমকপ্রদ। ধরুন, বাংলাদেশ এবং আমেরিকার তুলনা করি। এখানে উল্লেখ্য যে মাথাপিছু জ্বালানী ব্যবহারের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান একেবারেই নীচের দিকে। এমনকি হাইতি বা কঙ্গোর থেকেও আমরা পিছিয়ে আছি। অপর দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন নাগরিকের বাৎসরিক শক্তি চাহিদা আমাদের মাথাপিছু চাহিদার প্রায় ৫০ গুণ বেশী।
শক্তি ব্যবহারের প্রসঙ্গে একটি বহুল আলোচিত তথ্য আছে, পাঠকদের কাছে সেটাও আরেকবার পরিবেশন করা যায়। সমগ্র বিশ্বের জনসংখ্যার মোট ৫% আমেরিকাতে বসবাস করে। অথচ বিশ্বের ২৫% শক্তি ব্যবহার করছে তারা। অর্থাৎ জ্বালানী শক্তি খরচের মাপকাঠিতে তাদের জীবনযাত্রা কেবল ব্যয়বহুলই নয়, একেবারে বিলাসবহুল।
এর পেছনে বহু কারনই আছে। তবে সবচেয়ে দৃশ্যমান কারন হচ্ছে মার্কিনীদের চরম গাড়ি-প্রীতি। প্রতিটি মার্কিন পরিবারের কমপক্ষে একটি, অনেক ক্ষেত্রে দুটো করে গাড়ি রয়েছে। আরেকটি ছোট তথ্য - প্রতি হাজার জনে মার্কিনীরা ৮০০টি গাড়ি চালায়। অথচ বাংলাদেশে সেই সংখ্যা হচ্ছে প্রতি হাজার জন মানুষের জন্যে মাত্র দুটো করে গাড়ি!
এই রকম আরো অনেক ছোট বড় বহু উদাহরণ থেকে এতোটুকু আমাদের কাছে পরিষ্কার হয় যে উন্নত বিশ্বের দেশগুলো এত অতিরিক্ত হারে জ্বালানী খরচ করছে যে সেটা দীর্ঘমেয়াদী বিচারে জ্বালানী সংকট সৃষ্টি করতে বাধ্য।
ডলারের পতন এবং জ্বালানী-জুয়াড়িদের কারবার
তবে সত্যি কথা বলতে পশ্চিমাদের এই যথেচ্ছ জ্বালানী ব্যবহার তো নতুন কিছু নয়। কমপক্ষে গত ১০০ বছর ধরে এই ব্যবস্থা চালু আছে। তাহলে প্রশ্ন ওঠে আজ এই ২০০৮ সালে এসে তেলের দাম এমন বল্গাহীন বেগে কেন ছুটতে আরম্ভ করলো?
বিশেষজ্ঞরা আরো দুটি কারন খুঁজ়ে পেয়েছেন এর পেছনে। কারন দুটি একে অপরের সাথে সম্পৃক্ত। প্রথমটি হলো সাম্প্রতিককালে আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারে ডলারের পতন। গত এক বছর যাবত মার্কিন অর্থনীতি বেশ টালমাটাল অবস্থার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। মন্দা কেবল এলো এলো বলে। এর ফলে বাজারে মার্কিনদের মুদ্রা অর্থাৎ ডলারের আকর্ষণও কমে গেছে। বড় মাপের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা ডলারের এই পতনে বেশ বিমর্ষ – কেন না তাদের স্টক-শেয়ার-বন্ড অনেক কিছুই ডলারে মাপা। ডলারের দাম পড়ে গেলে তাদের এইসব স্টক শেয়ার বন্ড-এর মূল্যও পড়ে যায়।
এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসাবে অনেক আন্তর্জাতিক কারবারী (পরিভাষায় স্পেকুলেটার) এখন তেলের বাজারে তাদের টাকা ঢালছেন। এই বিষয়ে বৃটেনের নামকরা অর্থনীতিবিদ মেঘনাদ দেশাই (ইনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত) একটি গুরুত্বপূর্ণ লেখা দিয়েছেন। ফাইনানশিয়াল টাইমস পত্রিকায় এই রচনাটি প্রকাশিত হয় গত সপ্তাহে। দেশাই তেলের দাম অতিরিক্ত বাড়ার পেছনে সরাসরি এই কারবারীদের দায়ী করেছেন।
কারবারীদের বাণিজ্যের মূল কেন্দ্র হলো নিউ ইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জ – সংক্ষেপে নাইমেক্স। স্টক এক্সচেঞ্জে যেমন স্টকের কারবার হয়, নাইমেক্সে তেমন তেলের কন্ট্রাক্ট বেঁচা-কেনা হয়। দেশাই দেখিয়েছেন যে মাত্র ৫ বছর আগেও তেলের বাজারে এইসব কারবারীদের মোট বিনিয়োগ ছিল ১৩ বিলিয়ন ডলারের মতো। কিন্তু আজ সেই বিনিয়োগ গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২৬০ বিলিয়ন ডলারে!
এত টাকা কোত্থেকে এলো, কেনই বা এলো? দেশাই বলছেন যে ডলারের বাজার থেকে পালিয়ে এই কারবারীরা এখন তেলের বাজারে ঢুকেছেন অনেকটা হুজুগের বশবর্তী হয়ে। ভবিষ্যতে তেলের দাম আরো বাড়বে, এই আশায় কারবারীরা আগুনে আরো নতুন ঘি ঢেলে যাচ্ছেন।
এই হুজুগ বিষয়টি পরিষ্কার করতে আমাদের স্টক মার্কেট বিপর্যয়ের সাথে তুলনা টানা যেতে পারে। ৯৬ সালে ঢাকা শেয়ার বাজারে স্টকের দাম অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। দাম কেবল বেড়েই যাবে, এই আশায় অনেক সাধারণ মানুষ তাদের সঞ্চয় করা টাকা শেয়ার বাজারে খাটিয়েছিল। বাড়তি এই টাকার অনুপ্রবেশের ফলে শেয়ারের দাম আরো বেড়ে গিয়েছিল। (যদিও সেই শেয়ার বুদবুদ চিরস্থায়ী হয়নি, কিছুদিন পরে স্টক মার্কেটের পতন হয়েছিল।)
তেলের বাজারেও অনেকটা এই রকম হুজুগ কাজ করছে। তবে এইবার বিনিয়োগকারীরা সাধারণ মানুষ নয়, বরং আন্তর্জাতিক কারবারীর দল, বলা যায় জুয়াড়ীর দল। তারাই দাম ঠেলে ঠেলে বাড়াচ্ছে। তেলের চাহিদা-যোগানের কারন তো কিছু ছিলোই – যেগুলো উপরে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু দাম যতখানি বেড়েছে, তার সাথে চাহিদা-যোগানের অন্তর্নিহিত কারনগুলোর সম্পর্ক ক্ষীণ। চীন বা আমেরিকা বা নাইজেরিয়ার থেকেও বড় দোষী এখানে কারবারীরা। একদিনে ১০ ডলার মূল্যবৃদ্ধি তাদের তৎপরতারই ফলাফল।
মেঘনাদ দেশাই তাই নীতি নির্ধারকদের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন যে অবিলম্বে কারবারীদের উপরে নিয়মনীতি আরো কঠোর করা হোক। এদের কর্মকান্ডে কিছু রদবদল করা না গেলে তেলের বাজারে দামের বুদবুদ আরো ফুলতে থাকবে। এবং সেটা হয়ে দাঁড়াবে বিশ্বব্যাপী মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগের কারন। ইতিমধ্যে দেশে দেশে দাঙ্গা-নৈরাশ্য ছড়িয়ে পড়ছে। গরীবের পেটে গিয়ে পড়ছে লাথি।
এমনকি খোদ আমেরিকার গাড়ি-প্রেমিক জনগণও আর এত টাকার তেল কিনে কুলিয়ে উঠতে পারছে না। পাঁচ বছর আগে পেট্রোল পাম্পে এক গ্যালন পেট্রোলের দাম ছিল এক ডলারের আশে পাশে। সেই একই পাম্পের তেলের দাম আজকে ৪ ডলার ছাড়িয়েছে।
মার্কিনদের প্রচুর দায়ভার আছে জ্বালানী ব্যবহারের ক্ষেত্রে। মার্কিন সরকার অনেকগুলো দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ নিতে আজ পর্যন্ত গাফিলতি করেছে যার ফলে তাদের তেলের চাহিদা দিন কে দিন কেবল বেড়েই চলেছে। ট্রেন-বাস সহ অন্যান্য গণপরিবহন মাধ্যমকে তারা বিমাতাসুলভ চোখে দেখেছে। রেললাইন না বসিয়ে গাড়ি চলাচলের সুবিধার জন্যে চওড়া হাইওয়ে তৈরী করে দিয়েছে। গাড়ির গ্যালন-প্রতি মাইলেজ বাড়ানোর জন্যে কোন নিয়মনীতি বসানো হয়নি। তাই তেল অপচয় করে, এমন কম মাইলেজের গাড়ী নির্মান হয়েছে অনেক বেশী। অন্যান্য উন্নত দেশে যেমন ইউরোপে পরিবহণ পেট্রোলের উপর বিরাট কর ধার্য করা হয়, যাতে তেলের ব্যবহার কমানো যায়। আমেরিকাতে সেই চেষ্টাও করা হয়নি।
এই রকম করে মার্কিন সরকার ও মার্কিন সমাজের গোটা বিশেক ভূল সনাক্ত করেছেন বিশেষজ্ঞ ব্যারি রিটহোল্টস। ভবিষ্যতে চলতে গেলে এই ভূলগুলো নিরাময় করা আবশ্যক। মার্কিন সরকারের জন্যে এগুলো হবে দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প। রেল-ট্রাম বসানো, নতুন কর আরোপ করা, অল্টারনেটিভ জ্বালানীর পেছনে গবেষণা – এই সবগুলো কার্যকরী করতে ১-২ বছর থেকে শুরু করে এক দশক পর্যন্ত লেগে যেতে পারে।
তবে স্বল্পমেয়াদী ব্যবস্থা যেগুলো আছে, তার মধ্যে স্পেকুলেটার আর জুয়াড়ীদের হাত থেকে তেলের বাজারকে রক্ষা করা জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানীর দামের জ্বালায় জর্জরিত বিশ্বব্যাপী সাধারণ মানুষের খাতিরে পাশ্চাত্যের অর্থনীতির হর্তাকর্তারা এই আশু পদক্ষেপগুলো নিবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।



